Entertainment, News

Road to Champions Trophy

শুরুতেই আলিম দারকে ধন্যবাদ। ২০১৫ ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতের বিরুদ্ধে প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচে অমন বিতর্কিত আম্পায়ারিং না হলে বোধহয় আজ আমরা এই বাংলাদেশকে দেখতে পেতাম না। ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা হতে পারে তবে বাঘদের হুংকার এখন প্রতি ম্যাচেই নিশ্চিত। অন্তত পরিসংখ্যান কিন্তু তাই বলে।

বেশিদিন আগের কথা নয়, এইতো বছর চারেক আগেও বাংলাদেশের ওপেনারদের দ্রুত ড্রেসিং রুমে ফিরে যাবার তাড়া আর ধুঁকতে থাকা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের দুর্বল ব্যাটিং-এ খুব সহজ টার্গেট দিত বাংলাদেশ, যা প্রতিপক্ষ টিম হেসে খেলে করে ফেলত। সময়ের সাথে আমাদের তামিম-সাকিবের শানিত ধারে গড়ে উঠেছে এক দুর্বার দল। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ছায়ায় বাংলাদেশ পেয়েছে একঝাঁক নতুন মুখ যারা এখনই আমাদের অনেক বড়-বড় স্বপ্ন দেখায়।

আমাদের ছেলেরা এখন ছয় ফুটি পেস বোলারদের বাউন্সারে ভয় পায়না বরং নির্দ্বিধায় হুক, পুল মেরে দেয়। স্পিন ঘূর্ণি কাবু করে না মিডল অর্ডারদের, বরং প্রতিপক্ষ স্পিনারদের ব্যাপক হোম-ওয়ার্ক করে নামতে হয় আমাদের সাথে খেলার আগে।

বাঙালিরা জোরে বল করতে পারেনা বলে যেই প্রবাদ চালু ছিল যুগ যুগ ধরে সেই প্রবাদ দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজ ত্রয়ী। পেস বোলিং-এর আর্টকে মায়ের পেট থেকেই রপ্ত করে এসেছেন আমাদের “ফিজ”, যার কাটারে কাটা পড়ে বাঘা সব ব্যাটসম্যান। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব অবাক, কে এই ফিজ?

ততদিনে পানি অনেকখানি গড়িয়েছে। ওয়ার্ল্ডকাপে নিজেদের উন্নতির ছোঁয়া দেখিয়ে সদ্য অস্ট্রেলিয়া ফেরত বাংলাদেশ যেন ঠিক খাঁচায় পোরা ক্ষুধার্ত বাঘ। পাকিস্তান এলো বাংলাদেশ সফরে। কামরান আকমল তার ক্রিকেট ডায়েরির এই পাতাগুলো হয়তো খালিই রাখতে চাইবেন, চাইবেন পাকিস্তানের প্রতিটা স্পোর্টস সাংবাদিকও। বাংলাওয়াশ অধ্যায়ের সুত্রপাত এবং টাইগারদের উত্থান এখান থেকেই ফুল থ্রোটলে শুরু।

পাকিস্তানের পর বাগে পেলাম ভারতকে, দেখিয়ে দিলাম ওয়ার্ল্ড কাপের সেই ম্যাচের আসল বিজয়ী কারা ছিল, আরো একটি সিরিজ জয়। একে একে দক্ষিন আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে ধবল ধোলাই করে আফগানিদের উড়িয়ে দিয়ে ২০১৬ শেষ করল বাংলাদেশ ব্রিটিশ সম্রাজ্য পতনের মাধ্যমে। ততদিনে বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই, বাংলাদেশ এখন শুধুই তামিম সাকিব, মুশফিকের ব্যাটিং লাইনাপ নয়, বাংলাদেশ এখন সৌম্য, সাব্বিরেরও দেশ।

মিরপুর, হোম অফ ক্রিকেটে ২ নম্বর গেটের পাশে ফুচকাওয়ালা মিজান মিয়া থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সবাই এখন স্বপ্ন দেখেন আরো বড় অর্জনের, সাফল্যের। ক্রিকেট জ্বরে আক্রান্ত এই ইমোশোনাল বাঙালি সাপোর্টাররা এখন অনেক পরিণত, কোন ম্যাচে দল খারাপ করলে তারা খেলোয়াড়দের বাড়ি আক্রমণ করেন না, বরং এনালাইসিস করে ভুলটা কোথায় ছিল, সেটা শুধরে কিভাবে নেয়া যায়, ক্রিকেট উন্নয়নের ছোঁয়া সবখানেই। সেটা খেলোয়াড়দের মানসিকতা থেকে শুরু করে লাল-সবুজের জার্সি, সবখানেই। এতগুলো টানা সাফল্যের কারণে স্বাভাবিকভাবেই সাকিব আল হাসানের মতো বাংলাদেশের ওয়ানডে র‍্যাংকিংও উপরে উঠে এসেছে, আইসিসি র‍্যাংকিং-এ ৬ নম্বরে উঠে আসার কারণে বাংলাদেশ এখন বাকি ৭ বড় দলের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার ডাইরেক্ট এন্ট্রি পেল।

সফলতার সিড়ি কিন্তু বিদেশের মাটিতে গত ওয়ার্ল্ড কাপ থেকেই পাওয়া, এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ানডে’র অন্যতম শক্তিশালি দল হিসেবে বাংলাদেশ এবার ব্রিটিশ রাজ্যে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে। ঠিকই ধরেছেন, চ্যাম্পিয়ন হবার স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি, সেই সাহস, সেই শক্তি আমাদের উপচে পড়ছে, দরকার শুধু চাপ সামলে ইংলিশ কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেবার, বাকিটা ম্যাচ বাই ম্যাচের স্কোর বোর্ডে দেখিয়ে দিবে ক্যাপ্টেন মাশরাফির জলে ওঠা বাংলাদেশ।

Share